ইন্টারনেটের এক গোপন দুনিয়া

ইন্টারনেটের এক গোপন দুনিয়া

  • by PencilBox
  • 29/08/2021 - 04:47 PM
  • 0 Comments

একটি রুম এর মধ্যে একটি মানুষ কে অমানবিকভাবে শারীরিক অত্যাচার করা হচ্ছে । আর এই ভিডিও লাইভ কিছু মানুষ দেখছে এবং দেখার জন্য টাকা দিচ্ছে । তারা যেভাবে টর্চার করতে বলে সেই লোক সেই ভাবেই টর্চার করে ভিকটিম কে । এই টর্চার রুম কে রেড রুম বলা হয়। ডার্ক ওয়েবে এই ধরণের রুম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।


Dark Web কি? 

Dark Web হচ্ছে World Wide Web এর একটি উপাদান। যা পুরো ইন্টারনেট জুড়ে বিস্তৃত।  World Wide Web এর ৯০% ই হচ্ছে ডার্ক ওয়েব এর  কিন্তু আমরা সবাই ই এই ৯০% এর সাথে অপরিচিত। তার মানে আমাদের বিচরণ শুধু মাত্র ১০% এ। ডার্ক ওয়েবের মূল  শর্ত হচ্ছে গোপনীয়তা । এতটা ই গোপন যে কোন দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও তা খুজে বের করতে পারে না। আমাদের সারফেস ওয়েবে যে সকল সাইট নিষিদ্ধ তা ডার্ক ওয়েবে সচল । ডার্ক ওয়েব  কে অন্ধকার জগতের প্রবেশপথ ও বলা হয়। 

 

Dark Web এর উথান 

কীভাবে ডার্ক ওয়েব আসলো এর সঠিক তথ্য আজও অজানা । তবে ধারণা করা হয় অধীক গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই ডার্ক ওয়েব এর চিন্তা । কেননা পরোক্ষ ভাবে আমরা কিন্তু স্বাধীন  না । আমরা ইন্টারনেটে যত কিছু ব্যাবহার করি সবকিছুর ডেটা আমাদের Internet Provider  এর কাছে থাকে। যার ফলে সবকিছুই জানছে আমাদের ব্যাপারে । আমাদের কোন কিছুই গোপন থাকছে না । 

আবার অন্য এক ধারণা থেকে জানা যায় মার্কিন নৌবাহিনীরা যুদ্ধের সময় যেন খুব গোপন ভাবে যেন বার্তা আদান প্রদান করতে পারে এই জন্য ডার্ক ওয়েবের চিন্তা।    

   

কীভাবে Dark Web প্রবেশ করবেন 

আমরা সাধারণত কোন ওয়েবে সার্চ করার জন্য বিভিন্ন ধরণের ব্রাউজার ব্যাবহার করে থাকি যেমনঃ গুগল ক্রম , মোজিলা ফায়ার ফক্স , সাফারি , ওপেরা মিনি ইত্যাদি । ঠিক তেমনি ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে হলেও TOR  নাম এর একটি ব্রাউজার ব্যাবহার করতে হয় ।  TOR হচ্ছে মোজিলা ফায়ারফক্স এর অনুকরণে  তৈরি শুধুমাত্র ডার্ক ওয়েব এর জন্য।   

প্রথমে আমাদের সাধারণ আইপি পরিবর্তন করতে হবে ভিপিএন এর মাধ্যমে । এর জন্য পেইড ভিপিএন উত্তম।  তারপর TOR ব্রাউজার এর মাধ্যমে আমরা ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে পারবো। সেখানে আমরা duck duck go নামক সার্চ ইঞ্জিন ব্যাবহার করে সার্চ করতে পারবো ।  duck duck go কে ডার্ক ওয়েব এর গুগল বলা হয়। এইভাবেই আপনি ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে পারবেন।    

 

ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের সময় আমাদের কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে , নাহলে বিপদের সম্মুখীন হওয়া হতে পারে । কেননা ডার্ক ওয়েব কে অপরাধী দের স্বর্গরাজ্য বলা হয় । এইখানে  হ্যাকার দের অবাধ বিচরণ । কোন এক ভুল এর কারনে আপনার ডেটা তাদের কাছে চলে যেতে পারে অথবা ভাইরাস দিয়ে আপনার ডিভাইস টি ক্রাশ করতে পারে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যাবশ্যকীয় । 

ডার্ক ওয়েব হচ্ছে Deep Web এর একটি অংশ । ডার্ক ওয়েবে আমরা কিছু শর্ত মেনে ঢুকতে পারলে ও ডিপ ওয়েবে সাধারণ মানুষের প্রবেশ অনেকটা অসম্ভব বলা ই যায় । 

 

Dark Web এর ভয়াবহতা 

ডার্ক ওয়েব হচ্ছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য । অপরাধীরা ডার্ক ওয়েব এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এইখানে আপনি কল্পনা ও করতে পারবেন না এমন ধরণের কাজ হয়ে থাকে । ড্রাগস সাপ্লাই থেকে শুরু করে অস্ত্র বিক্রি , কিলিং মিশন ,পর্ণোগ্রাফি, হ্যাকিং আরও জঘন্যতম কাজ হয়ে থাকে এইখানে । ধারণা করা হয় মার্কিন কোন এক সংস্থা  অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ করতে এই ডার্ক ওয়েব ব্যাবহার করে থাকে । ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে আপনি যেকোনো দেশের নাগরিকত্ব কিনে নিয়ে সেই দেশের নাগরিক হয়ে যেতে পারবেন । 

 

মারিয়া ওয়েব 

ডার্ক ওয়েব এর একটি অংশ হচ্ছে মারিয়া ওয়েব । মারিয়া ওয়েব নামকরণ করা হয়েছে সমুদ্রের গভীরতম অংশের সাথে মিল করে। ধারণা করা হয়ে মারিয়া ওয়েব হচ্ছে ডার্ক ওয়েব এর সবথেকে নিকৃষ্ট অংশ । এইখানে বিভিন্ন দেশের গোপন নথিপত্র পাওয়া যায় । যা সেই দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ।  

 

Bitcoin

বিটকয়েন হচ্ছে এক ধরণের ক্রিপ্টো কারেন্সি । যা কে অদৃশ্য কারেন্সি বলা যেতে পারে । বিটকয়েন এর মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবে টাকা লেনদেন করতে হয় । বর্তমানে বিটকয়েন এর দাম অত্যাধিক। ১ বিটকয়েন = ৪১,৭২,৭১৬.৯৫ টাকা । 


 

ধারণা করা হয় ডার্ক ওয়েব আবিষ্কার হওয়ার শুরু দিকে তা গোপন ভাবে আদান প্রদানের জন্যই ব্যাবহার করা হতো । পরে এই গোপনীয়তার সুযোগ নিয়েই হয়ে উঠে অপরাধীদের অভয়ারন্যতে।  

সম্প্রতি BBC ডার্ক ওয়েবে তাদের প্রোফাইল তৈরি করেছে , জাতে করে যে সকল দেশে তাদের ব্যান করা হয়েছে সে দেশের ব্যাবহারকারীরা যেন ডার্ক ওয়েব এর মাধ্যমে তাদের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে। 

ডার্ক ওয়েব এখন সকল দেশের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডার্ক ওয়েব ব্যাবহার করে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক গুলোতে সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে । এর থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক ও ।  যা দেশগুলোর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে । তাই সকল দেশগুলো এখন সাইবার ইউনিট তৈরি করছে । এই দিক দিয়ে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। 

 

পরিশেষে বলা যায় , প্রযুক্তি সাধন করা হয়েছে আমাদের উন্নতির জন্য । আর এই প্রযুক্তি আমরা ব্যাবহার করছি আমাদের ধ্বংসের জন্য । 

 

All Comments


Post Your Comment

Please login to post a comment!