BLOG Details

ইউটিউব কি?

  • by A.H.M.Mohsin
  • 10/05/2020 - 03:21 AM
  • 0 Comments

ইউটিউব (ইংরেজি: YouTube) একটি ভিডিও আদান-প্রদান করার ওয়েবসাইট।


 

ইউটিউব ওয়েব ২. এর অন্যতম কর্ণধার ইউটিউব বর্তমান ইন্টারনেট জগতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট যা এর সদস্যদের ভিডিও আপলোড, দর্শন আর আদান-প্রদানের সুবিধা দান করে আসছে। এই সাইটটিতে আরো আছে ভিডিও পর্যালোচনা, অভিমত প্রদান সহ নানা প্রয়োজনীয় সুবিধা।

ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে ছিলেন মূলত পেপ্যাল প্রতিষ্ঠানের তিন প্রাক্তন চাকুরীজীবি, চ্যড হারলি, স্টিভ চ্যন আর বাংলাদেশী বংশদ্ভুত জাওয়েদ করিম।

ইউটিউব কোনো টাকা না নিয়ে অনেক রকমের ভিডিও অনলাইন মোবাইল বা কম্পিউটারে দেখতে দেয়। এখানে আপনি সবরকমের ভিডিও, গান, সিনেমা, সিরিয়েল, টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং অনেক অনেক রকমের ভিডিও আপনি দেখতে পারবেন।

আর, সোজাসোজি ভাবে বলতেগেলে YouTube হলো এমন একটি ওয়েবসাইট যে পুরো দুনিয়াতে সবাইকে ফ্রীতে অনেক রকমের ভিডিও বা সিনেমা অনলাইন লাইভ (Live) দেখতে দেয়।

এখন, ইউটিউবে যেই ভিডিওগুলি আপ্নে দেখেন সেগুলি সেখানে কিভাবে আসে ? কে YouTube এ সেই ভিডিওগুলি আপলোড করে ?

এই প্রশ্নোর উত্তর হলো, “আমার আর আপনার মতো লোকেরা“. হে, আমার এবং আপনার মতো লোকেরা ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করেন YouTube চ্যানেলের মাধ্যমে।

YouTube এর একটি চ্যানেল একটি ইউটিউব প্রোফাইলের মতন। যেরকম আমরা ফেসবুক বা টুইটারে প্রোফাইল তৈরি করি সেরকম ইউটিউবে চ্যানেল খোলা মানে একটি ইউটিউব প্রোফাইল বানানো।

একটি ইউটিউবের চ্যানেল বানানোর পর আপনার একটি চ্যানেলের নাম থাকবে এবং সেই চ্যানেলের নামের বা প্রোফাইলের মাধ্যমে আপনি ইউটিউবে নিজের বানানো ভিডিও আপলোড দিতে পারবেন এবং লোকেদের সেই ভিডিও দেখাতে পারবেন। লোকেরা আপনার চ্যানেলে গিয়ে আপনার আপলোড করা সবকয়টা ভিডিও দেখেনিতে পারবে।

তাহলে সোজাসোজি ভাবে বললে, একটি YouTube channel হলো আপনার একটি YouTube প্রোফাইল যার দ্বারা আপনি নিজের বানানো ভিডিও YouTube এ আপলোড করতে পারবেন এবং আপনার সেই চ্যানেলের মাধ্যমে লোকেরা আপনার আপলোড করা ভিডিও দেখতে পারবে।

 

YouTube এ  একাউন্ট  এবং Chanel যেভাবে খুলবেন।

১। একটি জিমেইল একাউন্ট অবশ্যই লাগবে

২। youtube.com এগিয়ে সাইন ইন এ জিমেইল একাউন্ট দিয়ে লগইন করতে হবে

৩। লগইন করার পর Create Channel  অপশনে ক্লিক করতে হবে
তাদের দেওয়া ধাপগুলো সঠিকভাবে পূরণ করে চ্যালেন তৈরি করতে হবে।

৪। চ্যানেল তৈরি হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় মানসম্মত প্রোফাইল পিকচার কভার ফটো ইত্যাদি আপলোড করে চ্যানেল সম্পূর্ণ করুন।

৫। চ্যানেল তৈরি সম্পন্ন হলে সেটি অবশ্যই ভেরিফাই করতে হবে। অন্যথাই ইনকাম সম্ভব না।  Verify এর জন্য Status & feature পাশে Verify Option  এ ক্লিক করতে হবে করুন মোবাইল নাম্বার দিয়ে অবশ্যই ভেরিফাই করতে হবে।

৬। চ্যালেনের জন্য সঠিক একটি নাম নির্বাচন  করতে হবে চ্যালেনের নাম অবশ্যই  সুন্দর মানসম্মত দিতে হবে, অবশ্য যে বিষয় এর ওপর ভিডিও Upload করবেন সে বিষয়ে সাথে মিল রেখে দিতে পারেন এতে ভিডিও সাবস্ক্রাইবার নিকট পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি যে বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করতে দক্ষ,  ঐ বিষয়টির ওপর ভালো জ্ঞান আছে এমন বিষয় নিয়ে চ্যালেন ওপেন করা উচিত।

অর্থাৎ ভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য ভিন্ন ভিডিও চ্যানেল তৈরি করা উচিত।

৭। চ্যানেলের  জন্য একটি নির্দিষ্ট ট্যাগ ব্যবহার করা ভালো সাধারনত চ্যানেল ট্যাগ ব্যবহার করলে, ব্যবহারকারীরা আপনার চ্যানেল টি অতি সহজে খুজে  পাবে।

অর্থাৎ আপনি যখন একটি ট্যাগ ব্যবহার করবেন তখন কোন ইউটিউব ব্যবহারকারী যখন ওই ধরনের ট্যাগ ব্যবহার করে সার্চ করবে তখন আপনার ভিডিওটি ওই সার্চ এ চলে আসবে। সামনে যার ফলে ব্যবহারকারী আপনার ভিডিও এর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

ভালো ট্যাগ সার্চের জন্য TubeBuddy, BidIQ ব্যবহার করতে পারেন।

এতক্ষণ জানালাম কিভাবে চ্যানেল ক্রিয়েট করতে হয় ও তার খুটি-নাটি কিছু বিষয়।

 

এইবার জানাব কিভাবে আপনার চ্যানেলটি থেকে আয় করা যাবে।

চ্যানেল ওপেন করে ভিডিও আপলোড করলেই কিন্তু আয় শুরু হয়ে যাবে না এর জন্য অবশ্যই ইউটিউব এর দেয়া কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

আপনার চ্যানেলটি তখনই আয়ের জন্য প্রস্তুত হবে যখন আপনি ইউটিউব এর মনিটাইজেশন  (Monetization) অপশন চালু করে গুগোল অ্যাডসেন্সে আবেদন করতে পারবেন এবং আপনার আবেদনটি গৃহীত হবে।

আর আপনি তখনই আবেদন করতে পারবেন যখন আপনার চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব 1000 পূর্ণ হবে ভিউ এর সময় 4000 ঘন্টা পূর্ণ হবে এর পূর্বে কোন ভাবে আবেদন করা যাবে না। এর জন্য অবশ্যই অনেক সময় লাগতে পারে কিন্তু আপনি যদি ধৈর্য ধরে শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে পারেন আপনার আবেদন গৃহীত হয়। তাহলে আপনি ঘরে বসেই অনেক টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

 

এই বার জানাব কিভাবে কি কি উপায়ে ইউটিউবে ভিডিও থেকে আয় করা যায়।

গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে

আপনারা আগেই জেনেছেন গুগল এডসেন্স আবেদন গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে চ্যানেলের আয় শুরু হয়। ইউটিউব থেকে আয়ের অন্যতম প্রধান উপায় হচ্ছে গুগল এডসেন্স। গুগল এডসেন্স যখন তাদের বিভিন্ন এড আপনার চ্যানেলে দেখানো শুরু করবে তখন এর ওপর ভিত্তি করে তারা আপনাকে একটা নির্দিষ্ট এমাউন্ট প্রদান করবেন। প্রতিটির জন্য 2 থেকে 5 ডলার ও তার কমবেশি হতে পারে আর এভাবে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে

YouTube থেকে আয়ের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এ ক্ষেত্রে  নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য আপনার ডিসক্রিপশন এ দিতে হবে। এখন কেউ যদি ওই লিঙ্ক থেকে কোন পণ্য ক্রয় করে তখন তার বিনিময় কোম্পানিটি আপনাকে একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করবে এভাবে অর্থ আয়ের জন্য আপনার চ্যানেলটিকে জনপ্রিয় করতে হবে অন্যথায় তারা আপনার চ্যানেলে তাদের লিংক দিতে কখনোই আগ্রহী হবে না।

পণ্যের রিভিউ এর মাধ্যমে

নিজের ভিডিওতে কোন কোম্পানির পণ্যের ওপর কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ব্রিফিং এর মাধ্যমে রিভিউ দিয়ে পণ্য প্রচার এর জন্য অর্থ গ্রহণ করা যায় এটিও আরেকটি ভালো মাধ্যম।

স্পন্সর ভিডিওর মাধ্যমে

অনেক কোম্পানি তাদের পণ্যের ভালো প্রচারণার জন্য জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল গুলো বেছে নেয়। স্পন্সর ভিডিও পাবলিশের  জন্য এক্ষেত্রে কোম্পানির পণ্য বৈশিষ্ট্য উপকারিতা ইত্যাদির ওপর ভিডিও তৈরি করে নিজের চ্যানেলের প্রকাশ করে ভিউয়ার দের  পণ্যের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলার জন্য অর্থ দিয়ে থাকে।

এছাড়া কেউচাইলে নিজের তৈরি কৃত পণ্য সেবা বা নিজের দক্ষতার ওপর ভিডিও তৈরি করে তা প্রকাশ করে ভিউয়ারদের থেকে ক্রেতা পাওয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

এতক্ষণ আমরা জানলাম কিভাবে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড এর মাধ্যমে আয় করা যায় আর প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

এবার জানাব কিভাবে ভিডিওটি জনপ্রিয় করা যায় যাবে সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধির মাধ্যমে।

প্রথমতঃ আপনাকে এমন বিষয়ের ওপর ভিডিও বানাতে হবে যার প্রতি বর্তমান দর্শকদের আগ্রহ বেশি এর জন্য আপনি ইউটিউব এ সার্চ করে দেখতে পারেন কোন ক্যাটাগরির ভিডিও এর লাইক সংখ্যা বেশি । সেই ধরনের ভিডিও আপলোড করতে পারলে জনপ্রিয়তা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

দ্বিতীয়তঃ ভিডিও এর গাফিক ও সাউন্ড এর মান অবশ্যই যথাসম্ভব উন্নত মানের ও পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে, এর জন্য ভালো মানের ক্যামেরা স্পিকার ও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন দর্শকরা সবসময় একটা পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি ও সুন্দর গ্রাফিক্সের ভিডিও দেখতে পছন্দ করে আপনি নিজেও তাই করবেন এজন্য ভিডিও এরমানের দিকে নজর রাখতে হবে।

তৃতীয়তঃ ভিডিও এর সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধির জন্য এটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর সাহায্য নিতে পারেন।  আপনার ভিডিও লিংকটি বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক টুইটার গুগল প্লাস ইত্যাদি শেয়ার করতে পারেন। এতে করে অনেক মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। তখন আপনাকে আপনার ভিডিও পছন্দ করবে। তখনই তারা আপনার ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করবে। আর ভিডিও দেখার জন্য এতে করে সাবস্ক্রাইব করে বৃদ্ধি পাবে আর সাথে চ্যানেলটি জনপ্রিয় হবে।

আর এভাবে আপনি সাবস্ক্রাইবার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেরা এর পরিমাণ বাড়াতে পারবেন এবং সেই সাথে আপনিও হয়ে যেতে পারবেন একজন সফল ইউটিউবার।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কয়েকজন সফল সফল ইউটিউবার নাম ও তাদের আয়ের পরিমাণ

শুধু আন্তর্জাতিক নয় বর্তমান আমাদের বাংলাদেশ অনেক সফল  জনপ্রিয় ইউটিউবার রয়েছেন চেষ্টা করলেও ধৈর্য ধরলে আপনিও একজন সফল ইউটিউবার হতে পারবেন

সতর্কতাঃ

শুধুমাত্র জনপ্রিয় হওয়ার জন্য রাঙ্কিং এ থাকা ক্যাটাগরির ভিডিও বানাবেন না।  যদি না আপনার সে বিষয়ে কোনো দক্ষতা না থাকে এমন বিষয় ভিডিও বানাবেন যে বিষয়ে আপনি ভালো পারবেন, বিশ্বাস করেন যে অনেকগুলো ভিডিও এর বিষয়ে ওপর তৈরি করার যোগ্যতা রাখেন। অন্যথায় কখনো সফল হতে পারবেন না।

কপিরাইট ভিডিও আপলোড করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।

সবশেষে বলব যে কোন লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অবশ্যই চেষ্টা পরিশ্রম করতে হবে আর তার জন্য অবশ্যই সঠিক ধৈর্যশীল হতে হবে ও আগ্রহ কে দমাতে দিবেন না যতক্ষণ না সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। ততক্ষন চেষ্টা করতে থাকবেন দেখবেন এক সময় আপনার সত্যিই সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন মনে রাখবেন পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি আর চেষ্টা কি না হয় আশা করি।

All Comments


Post Your Comment

Please login to post a comment!