ক্রিপ্টো কারেন্সি একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম যা লেনদেন করার জন্য ব্যাংকের উপর নির্ভর করে না। এটি একটি পিয়ার-টু-পিয়ার সিস্টেম । যা যে কাউকে যে কোন জায়গায় পেমেন্ট পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে সক্ষম করে। যখন আপনি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করবেন , তখন লেনদেনগুলি সর্বজনীন খাতায় রেকর্ড করা হয়।
এই কারেন্সির নাম ক্রিপ্টোকারেন্সি হওয়ার হচ্ছে কারণ এটি লেনদেন যাচাই করতে এনক্রিপশন ব্যবহার করে। এর মানে হল উন্নত কোডিং মানিব্যাগ এবং পাবলিক লেজারের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি ডেটা সংরক্ষণ এবং প্রেরণে জড়িত। এনক্রিপশনের উদ্দেশ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তা প্রদান করা। ক্রিপ্টো কারেন্সি কে অদৃশ্য মুদ্রা ও বলা হয় ।
আমেরিকান ক্রিপ্টোগ্রাফার ডেভিড চৌম ১৯৮৩ সালে ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল উপায়ে টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন। যার নাম দেন ই-ক্যাশ। তিনি ডিজিক্যাশের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে, একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক ইলেকট্রনিক পেমেন্টের প্রাথমিক ফর্ম বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন । পরবর্তীতে সফটওয়ারে নির্দিষ্ট এনক্রিপটেড কীগুলি ইনপুটের পর প্রাপক প্রেরণকারীর মুদ্রা পান। তবে এই মুদ্রা কোন দেশের মুদ্রার মত নয়। সম্পূর্ণ অস্থিত্বহীন । ২০০৯ সালে সাতশি নাকামোতো (ছদ্মনাম) কোন ব্যাক্তি অথবা গ্রুপ সফলভাবে কেন্দ্রীয় সত্তা বিহীন ডিজিটাল ক্যাশ পেমেন্ট চালু করেন। যা বিটকয়েন নামে পরিচিত।
সাতশি নাকামোতো এইটা কি কোন ব্যাক্তি না কোন দল এই বিষয়টি আজও অজানা।
ক্রিপ্টো কারেন্সি কতোটা সিকিউর এইটা আমাদের অনেকের ই প্রশ্ন । মুলত ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। ব্লকচেইন লেনদেনগুলিকে "ব্লক" এবং টাইম-স্ট্যাম্পে রেকর্ড করে থাকে । এটি একটি মোটামুটি জটিল, প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া, যার ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের ক্ষেত্রে ছদ্মবেশ করা কঠিন।তাছাড়া, লেনদেনের জন্য একটি দ্বি-ফ্যাক্টর প্রক্রিয়া ব্যাবহার করা হয় ।
যদিও উচ্চ সিকিউরিটি সম্পন্ন, এর মানে এই নয় যে ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকযোগ্য নয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টার্টআপগুলি হ্যাকের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যয় করেছে। ২০১৮ সালে হ্যাকাররা কয়েনচেকের 534 মিলিয়ন ডলার এবং বিটগ্রেইলের 1955 মিলিয়ন ডলার হ্যাক করে। যা ২০১৮ সালের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাক, ইনভেস্টোপিডিয়ার মতে।
ওয়ালেট বলতে আমরা বুঝি টাকার ব্যাগ।যেহেতু এইটি ক্রিপ্টো ওয়ালেট তাই স্বাভাবিক ভাবেই এর ও কোন বাস্তবিক রূপ নেই । ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, জমা রাখার এর জন্য যা ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাকেই ক্রিপ্টো ওয়ালেট বলে।
ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রিপ্টো ওয়ালেট এর মাধ্যমে আদান প্রদান হয়ে থাকে । লেনদেন এর ক্ষেত্রে ২ জন এরই ক্রিপ্টো ওয়ালেটে একাউন্ট থাকতে হবে। ক্রিপ্টো ওয়ালেটের সুরক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি। কারণ সকলের রয়েছে আলাদা ইনক্রিপ্টেড ঠিকানা।
বর্তমান সময়ে অনেক ধরণের ক্রিপ্টো কারেন্সি দেখা যায় । সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে ক্রিপ্টো কারেন্সির ধরণ ও। বর্তমানে অধিক জনপ্রিয় ২টি ক্রিপ্টো কারেন্সি হচ্ছে বিট-কয়েন এবং ডোজ-কয়েন। তাছাড়া আর ও রয়েছে ইথেরিয়াম, লাইটকয়েন, রিপল, মোনেরো, বাইটকয়েন, ড্যাশ ইত্যাদি ।
বিটকয়েন এবং অন্যান্য কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আকাশছোঁয়া হয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য ২০২১ সালে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে এবং ইথেরিয়ামের মূল্য এই বছরে চারগুণেরও বেশি।কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি টেকসই কিনা, এবং এর মূল্য দীর্ঘমেয়াদী কিনা তা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ।
ডা রিচার্ড স্মিথ বলেন, "এই ক্রিপ্টো, ব্লকচেইন টেকনোলজি, জনস্বার্থ এখনই এক ধরনের ফটকা জ্বর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে," ।
শেষ পর্যন্ত, ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যত - তাদের মূল্য, নিরাপত্তা এবং থাকার ক্ষমতা - এখনও বাতাসে রয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট হচ্ছে অস্থিতিশীল, যেকোনো সময় এর মুল্যের উত্থান-পতন হতে পারে ।
যদি আপনি বিনিয়োগের পোর্টফোলিও পরিচালনা করতে না পারেন, তাহলে ক্রিপ্টোকারেন্সি আপনার জন্য বুদ্ধিমান পছন্দ নাও হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন অনেক ধৈর্য। আর যেকোনো ক্রিপ্টো কারেন্সি তে বিনিয়োগ এর পূর্বে সেই কারেন্সি নিয়ে রিসার্চ করে নেয়াই উত্তম। আমাদের মনে রাখতে হবে ক্রিপ্টো কারেন্সির যাত্রা শবে মাত্র শুরু হয়েছে । বিভিন্ন টেক জায়ান্ট কোম্পানি এখনই ঝুকছে ক্রিপ্টো কারেন্সির দিকে। আগামী ১০ বছর পর ক্রিপ্টো কারেন্সি ই হবে ভবিষ্যৎ ।
2024-01-16 10:41:17
2024-01-17 11:35:18
2024-01-16 17:36:54
2024-01-17 10:19:10
2024-01-16 11:01:19
2024-01-17 09:45:36
2024-01-16 12:47:44
2024-01-16 17:02:06
Address: EDB Trade Centre (5th Floor), 93 Kazi Nazrul Islam Avenue, Dhaka-1215.
Copyright © PencilBox Training Institute. All Rights Reserved.

All Comments